নগরীর নালা থেকে ৪৮৯৫টন মাটি উত্তোলন

0
420
নগরীর নালা থেকে ৪৮৯৫টন মাটি উত্তোলন
নগরীর নালা থেকে ৪৮৯৫টন মাটি উত্তোলন

আসন্ন বর্ষা মৌসুমের পুর্বে নগরীর জলাবদ্ধতা রোধকল্পে জরুরী ভিক্তিতে ভরাট নালা-নর্দমাসমুহ হতে মাটি-আর্বজনা উত্তোলন বিশেষ ক্রাশ প্রোগাম অব্যহত রেখেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন।

গত ১১ মার্চ থেকে শুরু হওয়া মাটি আর্বজনা উত্তোলনের জন্য ক্রাশ প্রোগ্রামের অংশ হিসেব ৭ই এপ্রিল পর্যন্ত ৩৫ ওয়ার্ড থেকে ৪হাজার ৮শত ৯৫ টন মাটি উত্তোলন করেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। নগরী দেওয়ান বাজার ওয়ার্ড-এ এই কর্মসুচি উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আলহাজ্ব আ.জ.ম.নাছির উদ্দীন।

এই ক্রাশ প্রোগ্রাম নগরী ৪১টি ওয়ার্ডে আগামী ১১ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে।চসিকের নিজস্ব জনবল দিয়ে প্রতিদিন এক সংগে পাঁচ ওয়ার্ডে এই কর্মসুচি পরিচালিত হচ্ছে। এতে নিয়োজিত রয়েছে ২শতো ৫০জন শ্রমিক। কর্মসুচি অনুযায়ী প্রতিটি ওয়ার্ডে চারদিন করে ওয়ার্ডস্থিত নালা-নার্দমাা থেকে মাটি ও আর্বজনা উত্তোলন করা হচ্ছে।

উদ্বোধন দিনে দেওয়ান বাজার, জামালখান, আন্দরকিল্লাহ, উত্তর পতেঙ্গা ও দক্ষিণ পতেঙ্গা ওয়ার্ড সমুহ থেকে ১৪মার্চ পর্যন্ত ৬৭০ টন, ১৫ মার্চ থেকে ১৮মার্চ পশ্চিম ষোলশহর, ষোলকবহর, বাগমনিরাম, উত্তর আগ্রাবাদ ও দক্ষিণ হালিশহর ওয়ার্ড থেকে ৮৮৫টন, ১৯ মার্চ থেকে ২২ মার্চ পর্যন্ত পশ্চিম বাকলিয়া, দক্ষিণ বাকলিয়া, গোসাইলডাঙ্গা, হালিশহর ও দক্ষিণ মাধ্যম হালিশহর ওয়ার্ড থেকে ১০৩০টন, ২৩ মার্চ থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত চান্দঁগাও, লালখান বাজার, চকবাজার, উত্তর হালিশহর, আলকরণ ওয়ার্ড থেকে ৬০০টন, ২৭শে মার্চ থেকে ৩০ শে মার্চ পর্যন্ত উত্তর কাট্টলী ,দক্ষিণ কাট্টলী,পাহাড়তলী, এনায়েত বাজার, বকসীর হাট থেকে ৭৮০টন, ৩১শে মার্চ থেকে ৩রা এপ্রিল পর্যন্ত উত্তর পাহাড়তলী, উত্তর পাঠানটুলী, রামপুর, দক্ষিণ আগ্রাবাদ, পাথরঘাটা ওয়ার্ড থেকে ৩৯৫টন এবং ৪ঠা এপ্রিল থেকে ৭ই এপ্রিল পর্যন্ত পাচঁলাইশ, মোহরা, পুর্বষোলশহর, সরাইপাড়া, ফিরিঙ্গী বাজার ওয়ার্ড থেকে ৫৩৫ টন ময়লা সর্বমোট ৪শত ৮শত ৯৫টন আর্বজানা উত্তোলন করে চসিক।

আজ ৮ই এপ্রিল সোমবার থেকে ১১এপ্রিল পর্যন্ত দক্ষিণ পাহাড়তলী,জালালাবাদ,পুর্ব বাকলিয়া,পাঠানটুলী,পশ্চিম মাদারবাড়ী ও পুর্ব মাদারবাড়ী ওয়ার্ডস্থিত নালা-নর্দমা থেকে মাটি ও আর্বজনা উত্তোলন কর্মসুচি পরিচালিত হচ্ছে। উত্তোলনকৃত এসব বর্জ্যরে মধ্যে আবাসিক বজ্য,মাটি,পলিথিনসহ নানাধরণের আর্বজনা রয়েছে। এছাড়া নালায় রয়েছে ওয়াসা ও গ্যাস লেইন সহ অন্যান্য সেবা সংস্থার লেইন। এসব লেইনে পলিথিনসহ অন্যান্য বর্জ্য আটকে থাকায় নগরীতে জলবদ্ধতা সৃষ্ঠির অন্যতম কারণ।

এ প্রসংগে মেয়র বলেন জলাবদ্ধতাকে সহনীয় পর্যায়ে আনার লক্ষ্যে ইতিমধ্যে নগরীর নালা-নর্দমা থেকে মাটি উত্তোলনের কাজ চলমান রয়েছে। জলাবদ্ধতা চট্টগ্রাম নগরীর একটি দীর্ঘদিনের সমস্যা। আসন্ন বর্ষা মৌসুমের আগে এই মাটি উত্তোলনের কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা গেলে মহানগরীর জলাবদ্ধতা সহনীয় পর্যায়ে থাকবে তিনি প্রত্যাশা করেন।

তবে একথা সত্য যে নগরীর জলবদ্ধতা নিরসনে সিডিএ কর্তৃক পরিচালিত মেগাপ্রকল্প পুরোপুরি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত এ প্রকল্পের সুফল নগরবাসী পাবে কিনা তা সন্দেহ রয়েছে। তিনি নগরবাসীকে খাল, নালা-নর্দমায় গৃহস্থালী বর্জ্য ও যে কোন ধরনের ময়লা আবর্জনা না ফেলা এবং খালের পাড়ে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ থেকে বিরত থাকার আহবান অনুরোধ জানান। কারণ এসমস্ত ময়লা আবর্জনা খাল ও নালা এবং অবৈধ স্থাপনা পানি চলাচলকে বাধাগ্রস্থ করে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here