বিদ্যুতের পাইকারি দাম বাড়লো, কার্যকর ডিসেম্বরে

0
8

পিভিউ অনলাইন ডেস্ক :  বাংলাদেশে পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। আগামী ডিসেম্বর মাস থেকে নতুন দাম কার্যকর হবে। কিন্তু ভোক্তা পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম এখনি বাড়ছে না।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন বিইআরসি এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে সোমবার এই দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে।

কমিশনের চেয়ারম্যান মো. আবদুল জলিল বলেছেন, বিদ্যুতের পাইকারি পর্যায়ের দাম ২০ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর ফলে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড বা পিডিবি বছরে আট হাজার কোটি টাকা বাড়তি আয় করবে।

পাইকারি পর্যায়ে প্রতি কিলোওয়াট ৫ টাকা ১৭ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৬ টাকা ২০ পয়সা করা হয়েছে।  সর্বশেষ ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে এই দর নির্ধারণ করা হয়েছিল।

তবে পাইকারিতে দাম বাড়লেও বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলো খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের মূল্য বাড়াতে পারবে না।

ফলে  সাধারণ গ্রাহকদের জন্য বিদ্যুতের মূল্যহার, চার্জ ও অন্যান্য ফি আগে যা ছিল, এখনো তাই থাকছে। তা থেকে কোম্পানিগুলো বাড়াতে পারবে না।

সরকারি-বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদন কোম্পানির কাছ থেকে প্রথমে বিদ্যুৎ কিনে নেয় বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড বা পিডিবি।

এরপর সেই বিদ্যুৎ পাইকারি মূল্যে বিতরণ কোম্পানিগুলোর কাছে বিক্রি করে।

বিতরণ কোম্পানিগুলো আবার সেই বিদ্যুৎ খুচরা মূল্যে গ্রাহকদের কাছে বিক্রি করে থাকে।

তবে পাইকারিতে বেশি দামে বিদ্যুৎ কিনতে বাধ্য হলেও গ্রাহকদের কাছে বিতরণ কোম্পানিগুলো এখনি বেশি দামে বিক্রি করতে পারবে না।

খুচরা পর্যায়ে বিক্রি করতে হলে পুনরায় শুনানির মাধ্যমে দাম বাড়াতে হয়।

এর আগে ১২ই জানুয়ারি পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর একটি প্রস্তাব করেছিল পিডিবি। কিন্তু শুনানির পর অক্টোবরে কমিশন সেই প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছিল।

নিয়ম অনুযায়ী, সেই আদেশ পুনর্বিবেচনার জন্য ৩০ দিনের মধ্যে আবেদন করা যায়।

চৌদ্দই নভেম্বর পিডিবি রিভিউ আবেদন করেছিল।

অক্টোবরে বিইআরসি জানিয়েছিল, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড বিদ্যুতের দাম পাইকারি পর্যায়ে ৮ টাকার বেশি বাড়ানোর প্রস্তাব করেছিল।

বিইআরসির চেয়ারম্যান সেই সময় বলেছিলেন, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড যে প্রস্তাব দিয়েছিল তাতে এ খাতে সরকারের দেয়া ভর্তুকির বিষয়টি যুক্ত করা হয়নি। কারণ, সরকার বিদ্যুৎ খাতে প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়েছে।

প্রস্তাবে পাইকারি পর্যায়ে দাম বাড়ানোর পর সেটি ভোক্তা পর্যায়ে কী ধরণের প্রভাব ফেলতে পারে সে বিষয়ে কোন কিছু স্পষ্ট করা হয়নি বলে জানায় বিইআরসি।

এ ধরণের তথ্যগত অস্পষ্টতা থাকার কারণেই বিদ্যুতের দাম পুনর্মূল্যায়ন করা হয়নি বলে জানানো হয়।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আইএমএর একটি প্রতিনিধি দল সম্প্রতি বাংলাদেশ সফরে এসে বিদ্যুৎ ও জ্বালানীসহ বিভিন্ন খাতে ভর্তুকী কমানোর তাগিদ দিয়েছিল।

সোমবারের সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকেরা প্রশ্ন করেন, বিদ্যুতের এই দাম বাড়ানোর সাথে আইএমএফ-এর সেই পরামর্শের কোন সম্পর্ক আছে কি না।

এ প্রশ্নের জবাবে বিইআরসি-র চেয়ারম্যান মি. জলিল বলেন, আইএমএফ-এর প্রতিনিধিদল বিইআরসির সাথে বৈঠক করেছে। বিদ্যুতের মূল্য নির্ধারণ সম্পর্কে ধারণা নিয়েছে। কিন্তু তাদের কোন পরামর্শ অনুযায়ী এই দাম বৃদ্ধির ঘটনা ঘটেনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here