জলবায়ু তহবিলে ঢুকে পড়েছে বহুজাতিক বড় পশ্চিমা কোম্পানি, তবে উদ্বিগ্ন দরিদ্র বিশ্ব

0
11
  • শাকিল আনোয়ার
  • গ্লাসগো, স্কটল্যান্ড
  • জলবায়ু সম্মেলনে বেসরকারি কোম্পানির আনাগোনা একেবারে নতুন কিছু নয়। ২০১৫ সালে প্যারিস জলবায়ু সম্মেলনেই প্রথমবারের মত বেশ কটি কোম্পানি স্পন্সর হিসাবে হাজির হয়েছিল।

    কিন্তু গ্লাসগোতে বেসরকারি বিভিন্ন কোম্পানির উপস্থিতি এতটাই সরব যে তা নিয়ে বিশেষ করে দরিদ্র-অনুন্নত দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে সন্দেহ-উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

    জলবায়ু সম্মেলনের মুখ্য আয়োজক জাতিসংঘ। কিন্তু গ্লাসগোর কপ সম্মেলন এবার স্পন্সর করছে মাইক্রোসফট, ইউনিলিভার, হিটাচি, গ্লাক্সো-স্মিথক্লাইন, জাগুয়ার-ল্যান্ড রোভার এবং আইকিয়ার মতো প্রায় ডজন খানেক করপোরেট জায়ান্ট।

    কপ মূল সম্মেলন ভবনের অদূরে ‘গ্রিন জোন’ নামে আলাদাা একটি ভেন্যু তৈরি হয়েছে, যেখানে বেশ কিছু কোম্পানি – যেগুলোর অধিকাংশই ব্রিটিশ – তাদের উদ্ভাবিত নবায়নযোগ্য জ্বালানি নির্ভর যানবাহন, যন্ত্রপাতি প্রদর্শন করছে।

    বিশ্ব নেতাদের শীর্ষ বৈঠকের সময় তাদের সাথে এক মঞ্চে দাঁড়িয়ে জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে তার উদ্বেগ জানিয়ে ভাষণ দিয়েছেন অ্যামাজনের বিলিওনেয়ার কর্ণধার জেফ বেজোস। আফ্রিকায় জমির উর্বরতা বাড়ানোর জন্য টাকা দেয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি।

    অথচ মহাকাশে পর্যটন ব্যবসার প্রতিযোগিতায় উঠে-পড়ে লাগা নিয়ে মি. বেজোস পরিবেশবাদীদের তোপের মুখে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগও রয়েছে যে তিনি এমন সব মার্কিন রাজনীতিবিদদের চাঁদা দিয়েছেন যারা জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টি স্বীকারই করেন না।

    সম্মেলন কেন্দ্রে কথা হচ্ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে পর্যবেক্ষক হিসেবে আসা পরিবেশ ও মানবাধিকারকর্মী কেট রবিনসনের সাথে। জলবায়ু আলোচনায় কর্পোরেট খাতের এই সরব গতিবিধিতে খুবই ক্ষুব্ধ তিনি।

    “আমার মনে হচ্ছে জাতিসংঘের একটি আয়োজন করপোরেট খাত দখল করে নিয়েছে,” বললেন তিনি। “এটা সত্যিই বিস্ময়কর।”

    কেট রবিনসন আরও বলেন, “এমন সব কোম্পানি স্পন্সর হিসাবে হাজির হয়েছে যারা নিজেরাই তেল-গ্যাস ব্যবসার সাথে জড়িত। জেফ বেজোস বিশ্ব নেতাদের পাশে দাঁড়িয়ে জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্তদের ন্যায়বিচার নিয়ে কথা বলছেন … সত্যিই তামাশা।”

    পৃথিবীর উষ্ণতা কমানোর চেষ্টা এবং এরই মধ্যে ঘটে যাওয়া বিপদ লাঘবের তহবিল আসবে মূলত ধনী এবং শিল্পোন্নত দেশগুলো থেকে। আফ্রিকা, ল্যাটিন আমেরিকা এবং এশিয়ার অনুন্নত এবং উন্নয়নশীল দেশগুলো দাবি তুলেছে যে ২০৩০ সাল নাগাদ জলবায়ু সংকট নিরসনে বছরে তাদের জন্য ১,৩০০ বিলিয়ন (এক লক্ষ ত্রিশ হাজার কোটি) ডলারের তহবিল করতে হবে।

    বছরে তেরশো’ না হয়ে ৩০০ বিলিয়ন হলেও তাতে ব্যবসার বড় সুযোগ দেখছে পশ্চিমা বহুজাতিক কোম্পানিগুলো। পশ্চিমা সরকারগুলোও যে সেটাই চাইছে তা বুঝতে জ্যোতিষী হতে হয় না। এ নিয়ে অবশ্য তেমন একটা রাখঢাকও করা হচ্ছে না।

    জলবায়ু তহবিল সম্পর্কিত মীমাংসা আলোচনাগুলোতে পশ্চিমা দেশগুলোর সরকারি প্রতিনিধিরা বেসরকারি খাতকে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত করার কথা বলছেন।

    বাংলাদেশের বিশিষ্ট জলবায়ু বিজ্ঞানী ড আইনুন নিশাত – যিনি বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের সদস্য হিসাবে গ্লাসগো সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন – বিবিসি বাংলাকে বলেন, ২০১৫ সাল থেকে জলবায়ু তহবিলে, জলবায়ু প্রকল্পে বেসরকারি খাতের সম্পৃক্তি নিয়ে যে কথা শুরু হয়, তা গ্লাসগোতে অনেক বেড়েছে।

    “আমার মনে হয় যেসব কারণে গ্লাসগো সম্মেলন নিয়ে ভবিষ্যতে কথা হবে তার প্রধান একটি হবে যে এখান থেকেই জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কিত নীতি-পরিকল্পনায় সাফল্যের সাথে বেসরকারি খাতকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে,” তিনি যোগ করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here