নতুন জাহাজ এমভি আইভি রহমান’

পিভিউ ডেস্ক :   চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের গুপ্তছড়া থেকে সীতাকুণ্ডের কুমিরা ঘাটে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করেছে নতুন জাহাজ এমভি আইভি রহমান।

শনিবার (১৯ জুন) সকাল ৯ টায় জাহাজটি সদরঘাট থেকে সন্দ্বীপ গুপ্তছড়া ঘাটে আসে। সেখান থেকে দুপুর ১টায় ২শ’ যাত্রী নিয়ে সীতাকুণ্ডের কুমিরা ঘাটের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে।

এরআগে গেল ৬ মে ‘এমভি আইভি রহমান’ ও ‘এমভি তাজ উদ্দিন আহামদ’ জাহাজ দুটি গণভবন থেকে ভার্চ্যুয়ালি উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে ১৭ জুন বৃহস্পতিবার জাহাজটি সন্দ্বীপ (গুপ্তছড়া ঘাট) টু সীতাকুণ্ড (কুমিরা) নৌ রুটে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করার কথা থাকলেও বৈরী আবহাওয়ার কারণে তা পেছানো হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিনপাশে নদী ও দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর বেষ্টিত দ্বীপের প্রায় চার লাখ মানুষকে সাগর পাড়ি দিয়ে দেশের মূল ভূখণ্ডের সাথে যোগাযোগ করতে হয়। জেলা পরিষদের পরিচালনায় ৬ টি ফেরীঘাটে যাত্রী পারাপার করা হয়। তবে ভৌগোলিক ও অবকাঠামো সুবিধার কারণে কুমিরা টু গুপ্তছড়া রুটে যাত্রী ও মালামাল পরিবহন সবচেয়ে বেশি। বৈরী আবহাওয়ায় উত্তাল সাগরে নৌযান চলাচল বন্ধ থাকে।

ফলে দেশের মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে দ্বীপের বাসিন্দারা। নতুন জাহাজ পাওয়ায় দীর্ঘদিনের সেই ভোগান্তি ঘুচেছে দ্বীপবাসীর। উদ্বোধনের দিন যাত্রীদের জন্য ফ্রি যাতায়তের ব্যবস্থা করেন এমপি মাহফুজুর রহমান মিতা।

জাহাজে উঠার আগ মুহুর্তে যাত্রীদের সাথে নৌকায় এমপি মাহফুজুর রমহান মিতা

গুপ্তাছাড়া হতে কুমিরা ঘাটের নৌপথের নিয়মিত যাত্রী অনিক বলেন আমাদের প্রানের দাবী ছিল নিরাপদ নৌযাতায়াতের জন্য জাহাজ ব্যবস্থা করা সন্দ্বীপের মাটি ও মানুষের প্রানপ্রিয় নেতা মাহফুজুর রহমান মিতা এমপির নিরলস প্রচেষ্ঠায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের সন্দ্বীপবাসীর জন্য জাহাজ উপহার দিয়েছেন এতে আমরা দ্বীপবাসী অনেক আনন্দিত।

উদ্বোধনী অনুষ্টানে সংসদ সদস্য মাহফুজর রহমান মিতা বলেন সন্দ্বীপবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল নিরাপদ নৌযান তা আজ পুরন হয়েছে।কোরবানির ঈদের আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সন্দ্বীপবাসীর জন্য এম ভি আইভি রহমান জাহাজ উপহার পাঠিয়েছ। প্রতিনিয়ত নতুন চরের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি পাওয়ায় আগামী অক্টোবর থেকে বিআইডব্লিউটিএ নিয়মিত ড্রেজিং শুরু করবে।ফলে নতুন জেটি করে যাত্রীরা কাদা মাটি পাড়ি দেওয়া ছাড়া যাতায়াত করতে পারবে।এছাড়া সাগরিকা রাসমনি ঘাটের জেটি নিমার্ণের জন্য টেন্ডার ও ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

মাইল্ড স্টিল দ্বারা নির্মিত উপকূলীয় অঞ্চলে চলাচলের উপযোগী করে জাহাজটি নির্মাণ করা হয়েছে। ৫০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১০.৫০ মিটার প্রস্থের জাহাজটির হালের গভীরতা ৩ মিটার। এটির লোডেড ড্রাফট ১.৮৫ মিটার। জাহাজটির সার্ভিস গতি হবে প্রতি ঘন্টায় প্রায় ১০ নটিক্যাল মাইল। জাহাজটির যাত্রী ধারন ক্ষমতা ৫০০ জন। এরমধ্যে ৩৫০ জন ইকোনমি ক্লাস (ডেক) স্পেস ও ১৩৮ জন এর সাধারন আসন ও ১২টি ভিআইপি বিজনেস ক্লাস বিলাসবহুল কেবিন রয়েছে। শারীরিক প্রতিবন্ধীদের জন্য রয়েছে আলাদা আসন।

জাহাজটিতে ইউরোপের যান্ত্রিক যুগের বহূল ব্যাবহূত এ.বি.সি (এংলো বেলজিয়াম কর্পোরেশন) এর মেরিন ডিজেল ইন্জিন বসানো হয়েছে। উন্নত মানে ও আধুনিকর নেভিগেশন যন্ত্রপাতি ছাড়াও জাহাজটিতে পর্যাপ্ত সংখ্যক জীবন রক্ষা কারী সরঞ্জাম রয়েছে। এছাড়াও জাহাজে ৫০ টন মালামাল বহন করার সক্ষমতা রয়েছে। যাত্রী চলাচলে জাহাজের সুলভ টিকেট মূল্য ১২০ টাকা, এসি চেয়ার ২০০ টাকা, সিংগেল কেবিন ৫০০ টাকা, ডাবল কেবিন ১০০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সম্পাদনা-এসপিটি

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here