সন্দ্বীপে ফণীর আঘাতে জোয়ারের পানিতে ৪০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি

0
428

নরোত্তম বনিক,সন্দ্বীপ : সন্দ্বীপ ঘূর্ণিঝড় ফণির প্রভাবে জোয়ারের পানি ঢুকে সন্দ্বীপের প্রায় ৫০ টি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সারিকাইত ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের সায়েদ স’মিল এলাকায় জোয়ারের পানি ঢুকে  লোকালয়ের প্রায় ৪০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

শনিবার সকাল থেকে সন্দ্বীপে  দমকা হাওয়া শুরু হয়। বাতাসে বিভিন্ন এলাকায় গাছপালা উপড়ে যায়। নদীতে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে পানি বৃদ্ধি পায়। দুপুর প্রায় ১২ টায় জোয়ারের পানির স্রোতে এই এলাকার প্রায় ২৫ টি ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়। এসময়  ৬ টি পুকুরে লবনাক্ত পানি ঢুকে মাছ ভেসে যায়। প্রায় ৫০ একর জমির ফসল জোয়ারের পানিতে ডুবে যায়।   বাতাসের তান্ডবে সারিকাইত ইউনিয়নের ১ ও ৫ নং ওয়ার্ডে বেড়ীবাঁধের বাইরের ৮ টি ও মগধরা ইউনিয়নের ৯ টি কাঁচা ঘর ভেঙে যায়। কয়েকটি এলাকায় গাছপালা উপড়ে পড়ে যায়। সারিকাইত ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ ফখরুল ইসলাম পনির বলেন, সারিকাইত ২ ওয়ার্ডের ৮ টি কাচাঘর ভেঙে যায়।  সারিকাইত ইউনিয়নের এক অংশে  বেড়িবাঁধ  না থাকায় গত দুই বছর ধরে নিয়মিত  লোকালয়ে জোয়ারের পানি ঢুকে।

“উপমানসম্পন্ন বেড়িবাঁধ না থাকায় বারবার একই অংশ দিয়ে পানি ঢুকে ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। স্থানীয় বাসিন্দা মাষ্টার বশর বলেন, ”গত দুই বছর ধরে বেড়িবাঁধের কাজ করা হচ্ছেনা। গতবছর আমার ঘরবাড়ি ভাসিয়ে নিয়েছে। আজ দুপুর থেকে ৪ টা পর্যন্ত পানিবন্দী ছিলাম।”

এছাড়া,  বিচ্ছিন্ন ইউনিয়ন উরিরচরে ১২ টি ঘরবাড়ি ভেঙে গেছে। তবে আগে থেকে সতর্ক থাকায় মানুষ ও গবাদিপশুর তেমন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে জানিয়েছেন ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুর রহিম। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নুরুল হুদা বলেন, সন্দ্বীপের প্রায় ৭০ থেকে ৮০ টি ঘরবাড়ি ও উঠতি ফসল সহ প্রায় ৪০ থেকে ৫০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে আশ্রয়ন ও ত্রাণ সামগ্রী সহ যাবতীয় সকল সুযোগ সুবিধা দেওয়া হবে। সন্দ্বীপের সাংসদ মাহফুজুর রহমান মিতা ক্ষতিগ্রস্ত বেড়ীবাঁধ এলাকা পরিদর্শনকালে বলেন, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুত বেড়িবাঁধের ভাঙ্গা অংশ মেরামত করা হবে এবং সরকারীভাবে  ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী পৌছেঁ দেয়া হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here