রেলওয়েতে পেশি শক্তিকে নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছি: রেলমন্ত্রী

0
75

পিভিউ ডেস্ক :  রেলওয়েতে একসময় ‘জোর যার বেশি সেই রেলের মালিক’ ছিলো উল্লেখ করে রেলপথমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন বলেছেন, দায়িত্ব নেওয়ার দেড় বছরের মধ্যে রেলওয়েতে পেশি শক্তিকে নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছি। যতো বড় শক্তিশালী হোক, রেলওয়ের সম্পদ বেআইনিভাবে ভোগ করতে দেবো না।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টায় চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

এর আগে সকালে রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন চট্টগ্রাম, দোহাজারী, চকরিয়া ও কক্সবাজার পর্যন্ত রেললাইন প্রকল্পের কাজ পরিদর্শন করেন।

সুজন বলেন, ভূমিব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত একটি কাঠামো তৈরি করেছি। এটি গেজেট আকারে প্রকাশ হওয়ার পর এটির আলোকে ভূমি লিজ দেওয়া হবে। আমরা দখলে থাকা ভূমি উদ্ধারে শক্ত হাতে নেমেছি। ২০১১ সালে আলাদা রেলমন্ত্রণালয় করার পর রেলকে সুশৃঙ্খল অবস্থায় ফেরানোর চেষ্টা চলছে।

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইন প্রকল্পের কাজে ৪৫ শতাংশ অগ্রগতি হয়েছে উল্লেখ করে রেলমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইন প্রকল্পের কাজে বেশ অগ্রগতি হয়েছে। করোনার কারণে প্রকল্পটির কার্যক্রম একেবারে বন্ধ হয়নি। এখানে ব্রিজের কাজ ৯০ শতাংশের বেশি সম্পন্ন হয়েছে আর মাঠের কাজ প্রায় ৬০ শতাংশ শেষ হয়েছে। সার্বিক অগ্রগতি ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ।

তিনি বলেন, প্রতিটি এলাকা পরিদর্শন করে মনে হয়েছে প্রকল্পের কাজ ২০২২ সালের ৩০ জুনের মধ্যে শেষ হবে। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, মাঠের কাজ ২০২১ সালের মার্চ মাসের মধ্যে সম্পন্ন হবে। এ জন্য আমার বিশ্বাস, স্টেশন বিল্ডিং, প্লাটফরম, সিগন্যালিং সিস্টেমসহ সম্পূর্ণ কাজ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ হবে।

‘কালুরঘাট ব্রিজের নকশা তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে। দোহাজারী-কক্সবাজার পর্যন্ত যদি সুবিধা পেতে হয় তাহলে কালুরঘাট ব্রিজ এবং চট্টগ্রাম থেকে দোহাজারী পর্যন্ত রেলপথ মিটারগেজের পরির্বতে ব্রডগেজে রুপান্তর করতে হবে’ বলেন তিনি।

রেলমন্ত্রী সুজন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশনা দিয়েছেন, রেলের সকল রুট মিটারগেজের পরিবর্তে ব্রডগেজে রুপান্তর করার। এ কারণে লাকসাম থেকে আখাউড়া পর্যন্ত ডাবল লাইনের কাজ ২০২২ সালের মধ্যে শেষ করার চেষ্টা চলছে। এছাড়া চট্টগ্রাম থেকে লাকসাম পর্যন্ত রেললাইন ডুয়েলগেজে রুপান্তর করতে হবে। আখাউড়া থেকে টুঙ্গি পর্যন্ত রেললাইনেও ডুয়েলগেজে রুপান্তর করতে হবে। এসব কাজ যদি সম্পন্ন হয় তাহলে মিটারগেজ এবং ব্রডগেজ ট্রেন আমরা চালাতে পারবো।

‘আমরা আশা করছি ২০২২ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার মিটারগেজে ভ্রমণ করতে পারবো। আর ২০২৫ সালের মধ্যে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার রেললাইন ব্রডগেজে রুপান্তর করতে পারবো’ বলেন তিনি।

সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে সুজন বলেন, রেলওয়ের শাহ আমানত সুপার মার্কেট আমরা এক বছরের জন্য লিজ দিয়েছি। আবারও লিজ দেয় কীভাবে। যারা লিজ নিচ্ছে, তারা বিষয়গুলো দেখবে না? তারা কি বুঝে কিনে না? যার মালিকানা নেই, সে যদি বিক্রি করার পর অন্য কেউ নেয়, দোষটা-তো তাদের। তারপরও আমরা বিষয়গুলো তদন্ত করে দেখবো।

সম্পাদনা-এসপিটি

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here