নগরীতে পুলিশ বক্সে বিস্ফোরণের ঘটনায় ‘নব্য জেএমবি’র তিন সদস্য গ্রেপ্তার

0
162

পিভিউ ডেস্ক :   চট্টগ্রাম নগরীর ষোলশহর দুই নম্বর গেইটে পুলিশ বক্সে বোমা বিস্ফোরণ ঘটানোর সাথে জড়িত নব্য জেএমবি’র তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।এদের সবার বাড়ি চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায়।
আজ নব্য জেএমবির তিন সদস্যকে আটকের সত্যতা নিশ্চিত করে পরিদর্শক মো. আফতাব হোসেন বলেন, গ্রেপ্তার সাইফুল্লাহ সাতকানিয়ার দক্ষিণ ঢেমশা হাদুর পাড়ার ইছহাক মিয়ার ছেলে, মো. এমরান সাতকানিয়ার দক্ষিণ মরফলা আদম উল্লাহর মহির আহমদের ছেলে ও আবু ছালেহ সাতকানিয়ার উত্তর ঢেমশা মাইজপাড়া আলী বকসুর বাড়ির মহরম আলীর ছেলে।
এদের মধ্যে মো. সাইফুল্লাহ নগরীর চকবাজার এলাকার নুরা এন্টারপ্রাইজ নামে একটি কম্পিউটার দোকানের কর্মচারী, এমরান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অষ্টম সেমিস্টার এবং আবু ছালেহ একটি বেসরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের টেক্সটাইল অনুষদের ৭ম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী। আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তে পুলিশ বক্সে হামলার সাথে নব্য জেএমবির ৭ সদস্যের সম্পৃক্ততা পেয়েছে পুলিশ। তবে তাদের গ্রুপটিতে ১২ জনের মতো সদস্য রয়েছেন বলে জানিয়েছে বিস্ফোরণের ঘটনায় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের পরিদর্শক মো. আফতাব হোসেন।
আফতাব হোসেন জানান, রোববার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়া থানাধীন ডিসি রোডের গণি কলোনীতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে সিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার পলাশ কান্তি নাথের নেতৃত্বে একটি টিম। এ সময় তাদের কাছ থেকে বেশকিছু বিস্ফোরক সরঞ্জামও উদ্ধার করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার পলাশ কান্তি নাথ বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাইফুল্লাহ ও এমরান জানায়, পলাতক সেলিম উদ্দিন, জহির ও আকিবের মাধ্যমে তারা নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন নব্য জেএমবিতে যুক্ত হয়েছে। গ্রেপ্তার আবু ছালেহ জানায়, সাইফুল্লাহ তাকে নব্য জেএমবিতে যুক্ত করে।
তিনি বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সেলিম, সাদেকসহ আরও তিনজন আইইডি (বিস্ফোরক) নিয়ে এমরানের বাসায় যায়। জুমার নামাজের পর কয়েক জায়গায় ঘোরাঘুরি করে তারা বোমা বিস্ফোরণের জন্য ষোলশহর দুই নম্বর গেইটের ট্রাফিক পুলিশ বক্সটি নির্ধারণ করে। সেলিম আইইডি রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে কিভাবে বিস্ফোরণ ঘটাতে হবে সেটি এমরানকে প্রশিক্ষণ দেয় এবং রিমোট কন্ট্রোলার প্রদান করে।
অতিরিক্ত উপ-কমিশনার পলাশ কান্তি নাথ আরও বলেন, সেলিমের নির্দেশে পলাতক আবু সাদেক আইইডিটি সবার অগোচরে ট্রাফিক পুলিশ বক্সের ভেতর টেবিলের নিচে রেখে এমরানকে ফোনে জানায়। এমরান আইইডিটি বিস্ফোরণ না ঘটিয়ে রিমোট কন্ট্রোলারটি আপন নিবাসের সামনে ডাস্টবিনে ফেলে দেয়। পরে এমরানের সহায়তায় সাইফুল্লাহ রিমোট কন্ট্রোলারটি ডাস্টবিন থেকে সংগ্রহ করে ট্রাফিক পুলিশ বক্সের দক্ষিণে যাত্রীর ছাউনির পাশে দাঁড়িয়ে বিস্ফোরণ ঘটায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here